স্বরলিপি পদ্ধতি
ভাতখণ্ডে স্বরলিপি পদ্ধতি
১। শুদ্ধ স্বর লেখার জন্য কোনো চিহ্নের প্রয়োজন হয় না। যেমন-সারেগমপধনি
২। কোমল বা বিকৃত স্বর লেখার জন্য স্বরের নিচে-ড্যাশ বা আড়া চিহ্ন ব্যবহার হয় এবং তীব্র স্বর লেখার জন্য স্বরের উপরে খাড়া বা লম্ব চিহ্ন ব্যবহার হয়, যেমন-রে ধুনি এবং ম
৩। উদারা বা মন্ত্র সপ্তকের স্বর লেখার জন্য স্বরের নিচে বিন্দু ব্যবহার হয়, যেমন-নিধপম
৪। তার সপ্তকের স্বর লিখতে স্বরের উপর বিন্দু বা ফোটা বসে, যেমন-সা রে গম
৫। স্বর দীর্ঘ হলে স্বরের পরে ড্যাশ বা আড়া দাগ বসে, যেমন- সা--রেগপম।
৬। বাণী বা কবিতা দীর্ঘ হলে- অক্ষরের পর অবগ্রহ বা এস (s) চিহ্ন বলে, যেমন-ধন। ধান। পৃষ পে। ভরা।
৭। স্পর্শ স্বর বা কণ স্বর লিখতে- স্বরের উপরে ডান পাশে ছোটো স্বর বসে, যেমন-নি রোগ, গল্প-'রে গ।
৮। মীড়ের চিহ্ন স্বরের উপরে উল্টা অর্ধচন্দ্র বসে যেমন- পগসাধ।
৯। গীত স্বর ও তালের ছন্দ বিভাজনে কমা ব্যবহার হয়, যেমন- মাধুরী। করেছো। দান, আমার
১০। মুড়কী লিখতে প্রথম বন্ধনী ব্যবহার হয়, যেমন-একমাত্রায় চার স্বর পধমপ (প) সারেনিসা (সা)
১১। গমক ও খটকা লিখতে দীর্ঘ স্বরের স্থানে স্বর ব্যবহার হয়, যেমন-

১২। একমাত্রায় একের অধিক স্বর লিখতে অর্ধচন্দ্র ব্যবহার হয়, যেমন-গমপ সা ধপ গমগ পমগরে সা-রেগ
১৩। অর্ধমাত্রা লিখতে কমা ব্যবহার হয়, যেমন-সা, ধ, গম,প
১৪। তালচিহ্ন স্বর ও বাণীর নিচে বসে চিহ্নসমূহ
সম এর গুণ চিহ্ন- x
খালির শুন্য চিহ্ন- ০
খণ্ডের সংখ্যা- ২,৩,৪
খণ্ডের দাড়ি চিহ্ন ||
যেমন- সাঁ ধপ। মগ মরে।
আ sমারো জী sবনে
১৫। তাললিপি-ত্রিতাল ১৬ মাত্রা
মাত্রা সংখ্যা ১ ২ ৩ 8 ৫ ৬ ৭ ৮ ৯ ১০ ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১
বোল বা ঠেকা | ধা ধিন ধিন ধাধা ধিন ধিন ধা |না তিন তিন না । তা ধিন ধিন ধা । ধা
তাল চিহ্ন x ২ ০ ৩ x
আকারমাত্রিক স্বরলিপি পদ্ধতি
১। সরগমপধন-সপ্তক। খাদ-সপ্তকের চিহ্ন স্বরের নীচে হসন্ত, যথা-প্, ধূ, এবং উচ্চ-সপ্তকের চিহ্ন জ্বরের মাথায় রেফ, যথা- র্স, র, র্গ।
২। কোমল র = ঋ, কোমল গজ্ঞ, কড়ি ম=হ্ম, কোমল ধদ এবং কোমল নণ।
৩। ঋ' = অতিকোমল ঋষভ। অতিকোমল ঋষভের স্থান স ও ঋ স্বরদ্বয়ের মধ্যবর্তী। জ্ঞ', দ', '= যথাক্রমে অতিকোমল গান্ধার, ধৈবত ও নিষাদ। ঋৎ অণুকোমল ঋষভ। অনুকোমল ঋষভের স্থান ঋ ও র স্বরদ্বয়ের মধ্যবর্তী। জ্ঞা, দা, ণ = যথাক্রমে অনুকোমল গান্দার, ধৈবত ও নিষাদ।
৪। একমাত্রা = 1, অর্ধমাত্রা:, সিকিমাত্রা, দুইটি অর্ধমাত্রা; যথা-সরা। চারটি সিকিমাত্রা; যথা- সরগমা। দুইটি সিকিমাত্রা; যথা- সরঃ, একটি সিকিমাত্রা; যথা- স০। একটি অর্ধমাত্রা ও দুইটি সিকিমাত্রা মিলিয়া এক মাত্রা; যথা-সঃগরঃ। একটি দেড়মাত্রা ও একটি অর্ধমাত্রা মিলিয়া দুইমাত্রা, যথা- রাঃগঃ।
৫। কোনো আসল স্বরের পূর্বে যদি কোনো নিমেষকালস্থায়ী আনুষঙ্গিক স্বর একটু ছুঁইয়া যায় মাত্র, তাহা হইলে সেই স্বরটি ক্ষুদ্র অক্ষরে আসল স্বরের বাম পার্শ্বে লিখিত হয়, যথা- ব্রা 'রা। আসল স্বরের পরে যদি কখনো অন্য স্বরের ঈষৎ রেশ লাগে, তখন ঐ স্বর ক্ষুদ্র অক্ষরে দক্ষিণ পার্শ্বে লিখিত হয়, যথা- রা"।
৬। বিরামের চিহ্ন ও মাত্রাসমূহের চিহ্ন একই; হাইফেন-বর্জিত হইলে এবং স্বরাক্ষরের গায়ে সংলগ্ন না থাকিলেই সেই মাত্রা, বিরামের মাত্রা বলিয়া বুঝিতে হইবে। সুরের ক্ষণিক স্তব্ধতাকে বিরাম বলে।
৭। তাল-বিভাগের চিহ্ন এক-একটি দাঁড়ি। সমে ও সম্ হইতে তালের এক ফেরা হইয়া গেলে দাঁড়ির স্থলে I এরূপ একটি 'দণ্ড' চিহ্ন বসে। প্রায় প্রত্যেক কলির আরম্ভে দুইটি দণ্ড বসে। যেখানে গান একেবারে শেষ হয় সেখানে চারটি দণ্ড বসে। যথা-II II
৮। মাত্রাসমষ্টি ভিন্ন ভিন্ন গুচ্ছে বিভক্ত, প্রত্যেক গুচ্ছের প্রথম মাত্রার শিরোদেশে ১, ২, ৩, ৪, ০ ইত্যাদি সংখ্যা বিভিন্ন তালাঙ্ক নির্দেশ করে। শূন্য-চিহ্নে (০) ফাঁক ও যে সংখ্যায় রেফ-চিহ্ন থাকে (১) তাহাতেই সম্ বুঝিতে হইবে।
৯। আস্থায়ীতে প্রত্যাবর্তনের চিহ্নস্বরূপ দুইটি করিয়া দণ্ড বসে। কোনো কলির শেষে II এই যুগল দণ্ড এবং সব-শেষে II II দুই জোড়া দণ্ড দেখিলেই আস্থায়ীর প্রথমে যেখানে যুগল দণ্ড আছে সেইখান হইতে আবার আরম্ভ করিবে।
১০। আস্থায়ীর আরম্ভে, II এই যুগল দণ্ডের বাহিরে গানের অংশ গান ধরিবার সময় একবার মাত্র গাহিবে; কারণ প্রত্যেক কলির শেষে এই অংশটুকু "" এরূপ উদ্ধৃতি- চিহ্নের মধ্যে পুন পুন লিখিত হইয়া থাকে।
১১। অবসানের চিহ্ন, শিরোদেশে যুগল দাঁড়ি, যথা- সা। হয় এইখানে একেবারে থামিবে, নয় এইখানে থামিয়া গানের অন্য কলি ধরিবে।
১২। পুনরাবৃত্তির চিহ্ন {} এই গুক্ষবন্ধনী; এবং পুনরাবৃত্তিকালে কতকগুলি স্বর বাদ দিয়া যাইবার চিহ্ন () এই বক্রবন্ধনী, যথা- { সারা (গামা)}। মাপা।
১৩। পুনরাবৃত্তিকালে কোনো সুরের পরিবর্তন হইলে, শিরোদেশে [] এই সরল বন্ধনীচিহ্নের মধ্যে পরিবর্তিত [রা গা] স্বরগুলি স্থাপিত হয়, যথা-{সা রাগা)। কলির শেষে যুগল দণ্ডের মধ্যে ও সব-শেষে দুই প্রন্থ যুগল দণ্ডের মধ্যে [] এই সরল বন্ধনী থাকিলে, যথা- I[] I, II [] II, আস্থায়ীতে ফিরিয়া পরিবর্তিত সুর গাহিতে হয়।
১৪। কোনো একটি স্বর যখন অন্য একটি স্বরে বিশেষরূপে গড়াইয়া যায়, তখন স্বরের নীচে এইরূপ মীড়- চিহ্ন থাকে, যথা-ণা-পা।
১৫। যখন স্বরের নীচে গানের অক্ষর থাকে না, তখন সেই স্বর বা স্বরগুলির বাম পার্শ্বে হাইফেন (-) বসে
এবং গানের পঙ্ক্তিতে শুন্য (০) দেওয়া হয়।
যথা-সা-া। অথবা-সা-রা-গা-মা। একই স্বর
মা ০০০
মা০০০
একই স্বর পৃথক ঝোঁকে উচ্চারিত হলে সেই স্বরের বাম পার্শ্বেও হাইফেন বসে; যথা-
যথা-সা-সা-রা-রা।
অথবা- সা-সা-রা-রা।
মা ০
গা০০ ন্।
১৬। নীচে গানের অক্ষর স্বরান্ত না হইলে উপরে স্বরের বাম পার্শ্বে হাইফেন (-) বসে,
যথা-সা-রা-গা-মা। সা।
গা০০ ন্ গাঁ ০০ ন্
উচ্চারণ। স্বরলিপির ভিতরে প্রায় সব কথার বানান যথাসাধ্য উচ্চারণ অনুযায়ী বিশ্লেষ করিয়া দেখাইতে যত্ন করা হইয়াছে। =ে এ এবং অ্যা, যেরূপ বেদনা ও বেলা শব্দের প্রথম ব্যঞ্জনাশ্রিত একারের মুদ্রণে ইঙ্গিত করা হইয়াছে। তাহা ছাড়া 'অবেলায়' বিশ্লেষিত হইলে ছাপা হয় অবেলায়। তেমনি 'মনে' বিশ্লেষিত হইলে ছাপা হয়-মনে।
কণ্ঠসাধনা
কণ্ঠশিল্পীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তার কণ্ঠস্বর। শিল্পীর কণ্ঠস্বর মধুর হলে তবেই তার পরিবেশিত গান শ্রোতার মনে আনন্দ দিতে পারে। পক্ষান্তরে কণ্ঠস্বর কর্কশ হলে তার পরিবেশনা কখনোই শ্রোতার মনকে আকৃষ্ট করতে পারে না। অতএব কন্ঠস্বর সুরেলা করার জন্য সাধনা ও শারীরিক যত্ন নেওয়া প্রতিটি শিল্পীর একান্ত কর্তব্য। কণ্ঠ সাধনার কিছু পদ্ধতি নিম্নে দেওয়া হলো:
১। একটি হারমোনিয়ামে সারেগমপধনি সাঁ এই স্বরগুলো ধীরে-ধীরে আরোহণ এবং অবরোহণক্রমে কমপক্ষে দশ বার অনুশীলন করতে হবে। তারপর এই পাঠটি যথাসম্ভব দ্রুতগতিতে করার চেষ্টা করতে হবে।
২। গলাসাধার সময়ে মুখমণ্ডল যাতে স্বাভাবিক থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৩। সাধনার সময়ে মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসতে হবে।
৪। সুস্পষ্ট ও খোলা আওয়াজে চর্চা করতে হবে।
৫। কর্কশ নাকি আওয়াজে গলাসাধা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৬। গলা অতিরিক্ত বেসুরো অথবা নিঃশ্বাস ছোটো হলে স্থির সুরে (Standing Note) এক নিঃশ্বাসে যথাসাধ্য অভ্যাস করতে হবে।
অলংকার
নির্দিষ্ট স্বরসঙ্গতিতে আরোহণ-অবরোহণ করা কে অলঙ্কার বলে। অলঙ্কারের অপর নাম বর্ণ। বর্ণ চার প্রকার
যেমন: আরোহী বর্ণ: সারেগম
অবরোহী বর্ণ: মগরেসা
স্থায়ী বর্ণ: সাসারেরে
সঞ্চারী বর্ণ: সাসারেসারেগ
বর্ণ বা অলঙ্কারসমূহকে তালে ছন্দে বিন্যাস করে পরিবেশন করাকে পাল্টা বলে। কণ্ঠ সাধনের নিমিত্তে
নিম্নে কিছু পাল্টা দেওয়া হলো
১। সা রে গ ম প ধ নি সাঁ
১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ ৮
সা নি ধ প ম গ রে সা।
২। সাসা রেরে গগ মম পপ ধধ নিনি সাঁসা
সাঁসা নিনি ধধ পপ মম গগ রেরে সাসা।
৩। সাসাসা রেরেরে গগগ মমম পপপ ধধধ নিনিনি সাসাসা
সাঁসাসা নিনিনি ধধধ পপপ মমম গগগ রেরেরে সাসাসা।।
81 সাসাসাসা রেরেরেরে গগগগ মমমম পপপপ ধধধধ নিনিনিনি সাঁসাসাসা
সাঁসাসাসা নিনিনিনি ধধধধ পপপপ মমমম গগগগ রেরেরেরে সাসাসাসা।
৫।
আরোহণ | অবরোহণ |
১ সারে | ১ সানি |
২ রেগ | ২ নিধ |
৩ গম | ৩ ধপ |
৪ মপ | ৪ পম |
৫ পধ | ৫ মগ |
৬ ধনি | ৬ গরে |
৭ নিসা | ৭ রেসা |
৮ সারে | ৮ সানি |
৬।
আরোহণ | অবরোহণ |
১ সারেগ | ১ সানিধ |
২ রেগম | ২ নিধপ |
৩ গমপ | ৩ ধপম |
৪ মপধ | ৪ পমগ |
৫ পধনি | ৫ মগরে |
৬ ধনিসা | ৬ গরেসা |
৭ নিসারে | ৭ রেসানি |
৮ সারেগ | ৮ সানিধ।। |
৭।
আরোহণ | অবরোহণ |
১ সারেগম | ১ সানিধপ |
২ রেগমপ | ২ নিধপম |
৩ গমপধ | ৩ ধপমগ |
৪ মপধনি | ৪ পমগরে |
৫ পধনিসা | ৫ মগরেসা |
৬ ধনিসারে | ৬ গরেসানি |
৭ নিসারেগ | ৭ রেসানিধ |
৮ সারেগম | ৮ সানিধুপ।। |
৮।
আরোহণ | অবরোহণ |
১ সারেগমপ | ১ সানিধপম |
২ রেগমপধ | ২ নিধপমগ |
৩ গমপধনি | ৩ ধপমগরে |
৪ মপধনিসা | ৪ পমগরেসা |
৫ পধনিসারে | ৫ মগরেসানি |
৬ ধনিসারেগ | ৬ গরেসানিধ |
৭ নিসারেগম | ৭ রেসানিধপ |
৮ সারেগমপ | ৮ সানিধপম।। |
৯।
আরোহণ | অবরোহণ |
১ রেসা | ১ নিসা |
২ গরে | ২ ধনি |
৩ মগ | ৩ পধ |
৪ পম | ৪ মপ |
৫ ধপ | ৫ গম |
৬ নিধ | ৬ রেগ |
৭ সানি | ৭ সারে |
৮ রেঁসাঁ | ৮ নিসা।। |
১০।
আরোহণ | অবরোহণ |
১ গরেসা | ১ ধনিসা |
২ মগরে | ২ পধনি |
৩ পমগ | ৩ মপধ |
৪ ধপম | ৪ গমপ |
৫ নিধপ | ৫ রেগম |
৬ সানিধ | ৬ সারেগ |
৭ রেসানি | ৭ নিসারে |
৮ গরেসা | ৮ ধনিসা।। |

রাগ: বিলাবল
শাস্ত্রীয় পরিচয়
রাগ - বিলাবল
ঠাট - বিলাবল
ব্যবহৃত স্বর - সব স্বর শুদ্ধ ব্যবহার করা হয়।
জাতি - সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ
বাদী - ধ (ধৈবত)
সম্বাদী - গ (গান্ধার)
পরিবেশনের সময় - দিবা প্রথম প্রহর
অঙ্গ - উত্তরাঙ্গ প্রধান
প্রকৃতি - ঈষৎ চঞ্চল
আরোহণ - সা রে গ ম প ধ নি সাঁ
অবরোহণ - সাঁ নি ধ প ম গ রে সা
পকড় - গ ম রে, গ প, ধ নি সাঁ।
রাগ: বিলাবল
স্বরমালিকা
স্থায়ী

রাগ: বিলাবল
স্বরমালিকা
স্থায়ী

রাগ: বিলাবল
লক্ষণগীত
স্থায়ী
কহত বিলাবল ভেদ আলহাইয়া
প্রাত সময় গুণি গাবত জেহিকো
ধগ সম্বাদ করইয়া।
অন্তরা
সম্পূরণ শুধু সুর লেবইয়া
আরোহণ মধ্যম ত্যেজ দইয়া
সঙ্গ ধৈবত মৃদু নি বিচরইয়া
গপ ধনি সানি ধপ ধনি ধপ
মগমরে সুর লেবইয়া ॥
স্থায়ী

অন্তরা

রাগ: বিলাবল
লক্ষণগীত
স্থায়ী
সম্পূর্ণ স্বর শুদ্ধ বিলাবল আশ্রয় রাগ
বাদী সমবাদী ধগ অঙ্গ উত্তর ভাগ ॥
অন্তরা
সরল বক্রগতি সময় প্রথম দিবা
বিলাবল ঠাটে হয় ভক্তিরসে সাধিবা ॥
স্থায়ী

রাগ: ইমন
শাস্ত্রীয় পরিচয়
রাগ - ইমন
ঠাট - কল্যাণ
ব্যবহৃত স্বর - তীব্র মধ্যম ও বাকী সব স্বর শুদ্ধ।
জাতি - সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ (কোনো কোনো সংগীতগুণি আরোহে পঞ্চম দুর্বল মনে করেন)
বাদী - গ (গান্ধার)
সমবাদী - নি (নিষাদ)
পরিবেশনের সময় - রাত্রি প্রথম প্রহর
অঙ্গ - পূর্বাঙ্গ প্রধান
প্রকৃতি - শান্ত ও করুণ
আরোহণ - নিরেগমধনিসাঁ
অবরোহণ - সানিধপমগরেসা
পকড় - প রে গ রে, নি রে সা
রাগ: ইমন
স্বরমালিকা
স্থায়ী


রাগ: ইমন
স্বরমালিকা
স্থায়ী

রাগ: ইমন
লক্ষণগীত
স্থায়ী
সব গুণিজন ইমন গাবত
তীবর সুর করত সাধ ॥
অন্তরা
সুর বাদী গান্ধার সাধ
সমবাদী কর নিষাদ
রাত সময় প্রথম প্রহর
চতুর সুজন মন রিঝত ॥
স্থায়ী

রাগ: ইমন
লক্ষণগীত
স্থায়ী
সম্বাদ সুর রাগ রাজ
তীবর সুর করত সাধ ॥
অন্তরা
গান্ধার নিষাদ সম্বাদতে
সপ্তনাদ কল্যাণ করত
পঞ্চভূত গুণিজন মান সাম সাধ ॥
স্থায়ী


রবীন্দ্রসংগীত
তাল: দাদরা
পর্যায়: বিচিত্র
আলো আমার, আলো ওগো, আলো ভুবন-ভরা,
আলো নয়ন-ধোওয়া আমার, আলো হৃদয়-হরা ॥
নাচে আলো নাচে, ও ভাই, আমার প্রাণের কাছে
বাজে আলো বাজে, ও ভাই, হৃদয়বীণার মাঝে
জাগে আকাশ, ছোটে বাতাস, হাসে সকল ধরা।
আলোর স্রোতে পাল তুলেছে হাজার প্রজাপতি।
আলোর ঢেউয়ে উঠল নেচে মল্লিকা মালতী ॥
মেঘে মেঘে সোনা, ও ভাই, যায় না মানিক গোনা
পাতায় পাতায় হাসি, ও ভাই, পুলক রাশি রাশি
সুরনদীর কূল ডুবেছে সুধা-নিঝর-ঝরা ॥


|
রবীন্দ্রসংগীত
তাল: দাদরা
পর্যায়: স্বদেশ
আমি ভয় করব না ভয় করব না।
দু বেলা মরার আগে মরব না, ভাই, মরব না ॥
তরীখানা বাইতে গেলে মাঝে মাঝে তুফান মেলে-
তাই ব'লে হাল ছেড়ে দিয়ে ধরব না, কান্নাকাটি ধরব না ।
শক্ত যা তাই সাধতে হবে, মাথা তুলে রইব ভবে-
সহজ পথে চলব ভেবে পড়ব না, পাঁকের 'পরে পড়ব না।
ধর্ম আমার মাথায় রেখে চলব সিধে রাস্তা দেখে
বিপদ যদি এসে পড়ে সরব না, ঘরের কোণে সরব না ॥


|
রবীন্দ্রসংগীত
তাল: দাদরা
রাগ: বেহাগ-খাম্বাজ
শীতের হাওয়ার লাগল নাচন আকির এই ডালে ডালে।
পাতাগুলি শিরশিরিয়ে ঝরিয়ে দিল তালে তালে ॥
উড়িয়ে দেবার মাতন এসে কাঙাল তারে করল শেষে,
তখন তাহার ফলের বাহার রইল না আর অন্তরালে ।
শূন্য করে ভরে দেওয়া যাহার খেলা
তারি লাগি রইনু বসে সকল বেলা।
শীতের পরশ থেকে থেকে যায় বুঝি ওই ডেকে ডেকে
সব খোওয়াবার সময় আমার হবে কখন কোন্ সকালে ॥


|
রবীন্দ্রসংগীত
তাল: কাহারবা
রাগ: বেহাগ
পর্যায়: পূজা
আকাশ জুড়ে শুনিনু ওই বাজে তোমারি নাম সকল তারার মাঝে ।
সে নামখানি নেমে এল ছুঁয়ে, কখন আমার ললাট দিল ছুঁয়ে,
শান্তি ধারায় বেদন গেল ধুয়ে- আপন আমার আপনি মরে লাজে ॥
মন মিলে যায় আজ এই নীরব রাতে তারায়-ভরা ওই গগনের সাথে।
অমনি করে আমার এ হৃদয় তোমার নামে হোক-না নামময়,
আঁধারে মোর তোমার আলোর জয়, গভীর হয়ে থাক্ জীবনের কাজে


|
নজরুলসংগীত
তাল: দাদ্রা
ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি ॥
এই দেশেরই মাটি জলে এই দেশেরি ফুলে ফলে
তৃষ্ণা মিটাই মিটাই ক্ষুধা, পিয়ে এরি দুধের বাটি ॥
এই মায়েরই প্রসাদ পেতে মন্দিরে এর এঁটো খেতে
তীর্থ করে ধন্য হতে আসে কত জাতি।
এই দেশেরই ধূলায় পড়ি মাণিক যায় রে গড়াগড়ি
ও ভাই বিশ্বে সবার ঘুম ভাঙালো এই দেশেরি জিয়ন-কাঠি ॥
এই মাটি এই কাদা মেখে এই দেশেরি আচার দেখে
সভ্য হল নিখিল ভুবন দিব্য পরিপাটি।
সন্ন্যাসীনি সকল দেশে জ্বাললো আলো ভালবেসে
আঁধার রাতে একলা জাগে আগলে রে এই শ্মশান ঘাটি ॥
এইচ. এম. ভি. এন. ৭০৯৭ ।। শিল্পী: গোপাল সেন




|
নজরুলসংগীত
তাল: দাদরা
চল্ চল্ চল্। চল্ চল্ চল্।
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্ ॥
ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা টুটাব তিমির রাত
বাধার বিন্ধ্যাচল ॥
নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশশ্মান
আমরা দানিব নূতন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল ॥
চলরে নও জোয়ান
শোন রে পাতিয়া কান
মৃত্যু-তোরণ-দুয়ারে-দুয়ারে
জীবনের আহ্বান।
ভাঙ্ রে ভাঙ্ আগল
চল্ রে চল্ রে চল্ ॥
এইচ. এম. ভি. এন ৭১৫৫। শিল্পী: ধীরেন্দ্রনাথ দাস। মার্চ-সংগীত। ছায়াছবি: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন। তাল: দাদ্রা
[১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান করতে এসে কবি এ গানটি রচনা করেন।।



|
নজরুলসংগীত
তাল: দাদরা
উভয়ে দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য,
হে উদার নাথ, দাও প্রাণ।
স্ত্রী: দাও অমৃত মৃত জনে
পুরুষ: দাও ভীত চিত জনে
উভয়ে: শক্তি অপরিমাণ।
হে সর্বশক্তিমান ॥
স্ত্রী: দাও স্বাস্থ্য, দাও আয়ু,
স্বচ্ছ আলো, মুক্ত বায়ু,
উভয়ে দাও চিত্ত অনিরুদ্ধ,
দাও শুদ্ধ জ্ঞান।
হে সর্বশক্তিমান ॥
স্ত্রী: দাও দেহে দিব্য কান্তি,
পুরুষ: দাও গেহে নিত্য শান্তি,
উভয়ে : দাও পুণ্য প্রেম ভক্তি, মঙ্গল কল্যাণ।
স্ত্রী : ভীতি নিষেধের ঊর্ধে স্থির,
পুরুষ: রহি যেন চির-উন্নত শির
উভয়ে : যাহা চাই যেন জয় করে পাই,
গ্রহণ না করি দান।
হে সর্বশক্তিমান।



|
নজরুলসংগীত
তাল: তাল-ফেরতা
যায় ঝিল্মিল্ ঝিল্মিল্ ঢেউ তুলে
দেহের কূলে কে চঞ্চলা দিগঞ্চলা
মেঘ-ঘন-কুন্তলা।
দেয় দোলা পূব-সমীরণে
বনে বনে দেয় দোলা ॥
চলে নাগরী দোলে ঘাগরী
কাঁখে বরষা-জলের গাগরী
বাজে নূপুর-সুর-লহরী
রিমিঝিম্, রিম্ ঝিম্, রিম্ ঝিম্
চল-চপলা ॥
দেয়ারী তালে কেয়া কদম নাচে
ময়ূর-ময়ূরী নাচে তমাল-গাছে।
এলায়ে মেঘ-বেণী কাল-ফণী
আসিল কি দেব-কুমারী
নন্দন-পথ-ভোলা ॥



|
লোকসংগীত
কথা: সংগ্রহ
সুর: গিরীণ চক্রবর্তী
তাল: কাহারবা
বেলা দ্বিপ্রহর ধু ধু বালুচর
ধূপেতে কলিজা ফাটে
পিয়াসে কাতর।
আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া
দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে ॥
আসস্মান হইল টুডা টুডা
জমিন হইল ফাডা
মেঘ রাজা ঘুমাইয়া রইছে
মেঘ দিব তোর কেডা ॥
হালের গরু বাইন্দা
গিরস্থ মরে কাইন্দা
ঘরের রমণী কান্দে
ডাইল খিচুড়ি রাইন্দা ॥
আম পাতা লড়ে চড়ে
কাডল পাতা ঝরে
পানি পানি কইরা বিলে
পানি কৌড়ী মরে ॥
ফাইটা ফাইটা রইছে যত
খালা বিলা নদী
পানির লাইগা কাইন্দা মরে
পঙ্খি জলধি ॥
কপোত কপোতী কান্দে
খোপেতে বসিয়া
শুকনা ফুলের কলি পড়ে
ঝরিয়া ঝরিয়া ।


ভাটিয়ালি
কথা ও সুর: আবদুল লতিফ
তাল: কাহারবা
ও পদ্মা নদীরে ... ...
সর্বনাশা পদ্মা নদী তোর কাছে শুধাই
বল আমারে তোর কিরে আর কূল কিনারা নাই
ও নদীর কূল কিনারা নাই ।
পারের আশায় তাড়াতাড়ি,
সকাল বেলায় ধরলাম পাড়ি
আমার দিন যে গেল সন্ধ্যা হল তবু না কূল পাই
কূল কিনারা নাই ও নদীর কূল কিনারা নাই ।
পদ্মারে তোর তুফান দেইখা পরান কাঁপে ডরে
ফেইলা আমায় মারিস না তোর সর্বনাশা ঝড়ে।
একে আমার ভাঙ্গা তরী
মাল্লা ছয়জন সল্লা করি
আমার নায়ে দিল কুড়াল মারি কেমনে পারে যাই
কূল কিনারা নাই ॥
[তাল ছাড়া গাইতে হবে।




ভাওয়াইয়া
তাল: দ্রুত দাদরা
কথা ও সুর: আবদুল করিম
আজি ভাল্ করিয়া বাজান রে দোতোরা
সুন্দরী কমলা নাচে ॥
ওরে কমলার নাচনে বাগিচার পিছনে
চাঁন্দ ঝলমল হাসেরে ॥
ওরে, হেলিয়া নাচে দুলিয়া নাচে রে,
ও তার মাটিতে পাও না পড়ে।
ওরে গগন নামিয়া নাচে ও,
যেন খঞ্জন পংখী নাচে রে ॥
ওমন সুন্দরী কমলা নাচে,
আজি ভাল্ করিয়া বাজান রে ঢাকুয়া।
সুন্দরী কমলা নাচে।
ঘুরিয়া নাচে ঢলিয়া পড়ে রে,
ওর তার দ্যাহায় বসন নাই।
ওরে পূবালী বাতাসে যেন ও,
উয়ার ক্যাশে খেলা করে রে ॥




বাউল গান
কথা: লালন সাঁই
তাল: দ্রুত দাদরা
ও যার আপন খবর আপনার হয়না
একবার আপনারে চিনতে পারলেরে।
যাবে অচেনারে চেনা ।
ও সাঁই নিকট থেকে দূরে দেখায়
যেমন কেশের আড়ে পাহাড় লুকায় দেখনা
আমি ঘুরে এলাম সারা জগত্ রে
তবু মনের গোল তো যায় না ॥
ওসে অমৃত সাগরের সুধা
সুধা খাইলে জীবের ক্ষুধা তৃষ্ণা রয়না
ফকির লালন মরলো জল পিপাসায় রে
কাছে থাকতে নদী মেঘনা ॥




দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান
তাল: দাদরা
ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি ॥
চন্দ্র-সূর্য-গ্রহতারা, কোথায় উজল এমন ধারা
কোথায় এমন খেলে তড়িৎ এমন কালো মেঘে
তার পাখির ডাকে ঘুমিয়ে উঠি পাখির ডাকে জেগে ।
এত স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধূম্র পাহাড়
কোথায় এমন হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে
এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে ॥
পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে
তারা ফুলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে ॥
ভায়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ
ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি ॥


রজনীকান্ত সেনের গান
তাল: দাদরা
মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই।
দীন দুখিনী মা যে তোদের, তার বেশি আর সাধ্য নাই ॥
ওই মোটা সুতোর সঙ্গে মায়ের অপার স্নেহ দেখতে পাই।
আমরা এমনি পাষাণ, তাই ফেলে ওই পরের দোরে ভিক্ষে চাই ।
ওই দুঃখী মায়ের ঘরে, তোদের সবার প্রচুর অন্ন নাই
তবু তাই বেচে কাঁচ, সাবান, মোজা কিনে করলি ঘর বোঝাই ॥
আয়রে আমরা মায়ের নামে, এই প্রতিজ্ঞা করব ভাই-
'পরের জিনিস কিবো না, যদি মায়ের ঘরের জিনিস' পাই ।


|
অতুলপ্রসাদ সেনের গান
তাল: দাদরা
মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে তোমার বোলে কতই শান্তি ভালোবাসা ॥
কী যাদু বাংলা গানে-
গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে।
গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা ॥
ওই ভাষাতেই নিতাই গোরা,
আনল দেশে ভক্তিধারা-
আছে কই এমন ভাষা, এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা? ।
বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন,
হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন-
ওই ফুলেরই মধুর রসে বাঁধল সুখে মধুর বাসা ॥
বাজিয়ে রবি তোমার বীণে
আনল মালা জগৎ জিনে-
তোমার চরণ-তীর্থে মা গো জগত করে যাওয়া-আসা ॥
ওই ভাষাতেই প্রথম বোলে
ডাব্বু মায়ে 'মা' 'মা' ব'লে
ওই ভাষাতেই বলব 'হরি' সাঙ্গ হলে কাঁদা-হাসা॥




|
দেশাত্মবোধক গান
কথা: ফজল-এ-খোদা
সুর: ওস্তাদ আবেদ হোসেন খান
তাল: দ্রুত দাদরা
যে দেশেতে শাপলা শালুক ঝিলের জলে ভাসে
যে দেশেতে কলমি কমল কনক হয়ে হাসে
সেই আমাদের জন্মভূমি মাতৃভূমি বাংলাদেশ ॥
যে দেশেতে বজরা পানসি উজান ভাটি চলে,
যে দেশেতে মাঝি মাল্লা নতুন কথা বলে
সেই আমাদের জন্মভূমি মাতৃভূমি বাংলাদেশ ॥
যে দেশেতে নদ নদীরা এক সাগরে মেশে
আমরা সবাই নিত্য খুশি সে দেশ ভালবেসে।
যে দেশেতে কাঁখের কলসী নদীর ঘাটে আসে
যে দেশেতে খুশির জোয়ার সকল বারো মাসে
সেই আমাদের জন্মভূমি মাতৃভূমি বাংলাদেশ ॥



দেশাত্মবোধক গান
কথা: মাসুদ করিম
সুর: ধীর আলী মিয়া
তাল: দাদরা
ধানে ভরা গানে ভরা
আমার এদেশ ভাই
ফুলে ভরা ফলে ভরা
এমন দেশ আর নাই।
রাখাল যেমন বাজায় বাঁশি
রাখালী গায় বারোমাসী
এমন জারি-সারি-ভাটিয়ালী
কোথায় গেলে পাই ॥
আমি দেশের ক্ষেতখামারে
আশার স্বপন গড়ি
মাঠের সোনা ঘরে তুলে
আমি গোলা ভরি।
এই দেশেতে জন্ম আমার
সেই তো জানি গর্ব আমার
এসো এই দেশেরই তরে মোরা
জীবন দিয়ে যাই।



দেশাত্মবোধক গান
কথা: মনিরুজ্জামান মনির
সুর: আলাউদ্দিন আলী
তাল: দাদরা
সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি
ও আমার বাংলাদেশ
প্রিয় জন্মভূমি ॥
জল সিঁড়ি নদী তীরে
তোর খুশির কাঁকন যেন বাজে
ও কাশবনে ফুলে ফুলে
তোর মধুর বাসর বুঝি সাজে
তোর একতারা হায় করে বাউল
আমায় সুরে সুরে।
আঁকা-বাঁকা মেঠো পথে
তোর রাখাল হৃদয় জানি হাসে
ও পদ্ম কাঁপা দীঘি-ঝিলে
তোর সোনার স্বপন খেয়া ভাসে
তোর এই আঙিনায় ধরে
রাখিস আমায় চিরতরে ॥



দেশাত্মবোধক গান
কথা ও সুর: আবু জাফর
তাল: কাহারবা
এই পদ্মা এই মেঘনা
এই যমুনা সুরমা নদী তটে
আমার রাখাল মন
গান গেয়ে যায়
এ আমার দেশ
এ আমার প্রেম
আনন্দ বেদনায় মিলন বিরহ সংকটে
কত আনন্দ বেদনায়
মিলন বিরহ সংকটে ॥
এই মধুমতি ধান সিঁড়ি নদীর তীরে
নিজেকে হারিয়ে যেন
পাই ফিরে ফিরে
এক নীল ঢেউ কবিতার প্রচ্ছদ পটে
আনন্দ বেদনায় মিলন বিরহ সংকটে ॥
এই পদ্মা এই মেঘনা
এই হাজার নদীর অববাহিকায়
এখানে রমনীগুলো নদীর মত
নদী ও নারীর মত কথা কয়।
এই অবারিত সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে'
নির্ভয় নীল আকাশ রয়েছে নুয়ে'
যেন হৃদয়ের ভালবাসা হৃদয়ে ফুটে
আনন্দ বেদনায় মিলন বিরহ সংকটে ॥




জাতীয় সংগীত
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে-
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি ॥
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো-
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো
মরি হায়, হায় রে-
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি ॥



Read more